Latest Posts

ই-কমার্স মার্কেটপ্লেসঃ সিংগেল ভেন্ডর ও মাল্টি ভেন্ডর ওয়েবসাইটের পার্থক্য

ই-কমার্স মার্কেটপ্লেসঃ সিংগেল ভেন্ডর ও মাল্টি ভেন্ডর ওয়েবসাইটের পার্থক্যঃ লেখকঃ নাজিম উদ্দিন শেখ  আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির যুগে মানুষের জীবনকে অনেক সহজ করে তুলেছে। ইন্টারনেটের অবদানে পৃথিবী...

ইভ্যালি : জন্ম, উত্থান ও বিজনেস মডেল পর্যালোচনা !

ইভ্যালি : জন্ম, উত্থান ও বিজনেস মডেল পর্যালোচনা  লেখকঃ নাজিম উদ্দিন শেখ  'ইভ্যালি' – বাংলাদেশের সবচেয়ে আলোচিত ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম। ২০১৯ সালে বাংলাদেশের ই কমার্স গুলোর শেয়ার...

ঘরে বসে বাংলাদেশ থেকে ইন্টারন্যাশনাল মাস্টার কার্ড পাওয়ার উপায় ও করণীয়

ঘরে বসে বাংলাদেশ থেকে ইন্টারন্যাশনাল মাস্টার কার্ড পাওয়ার উপায় ও করণীয় লেখকঃ নাজিম উদ্দিন শেখ  মাস্টার কার্ড ও ভিসা কার্ড হয়তো আমরা সবাই চিনি। ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটপ্লেসে...

শিশুদের জন্য সেরা ১০ টি অ্যাপ।

শিশুদের জন্য সেরা ১০ টি অ্যাপ। আধুনিক যুগ তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর যুগ। এই আধুনিক যুগে প্রযুক্তি যেন আমাদের আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছে প্রতিটি ক্ষেত্রে । তাই বর্তমান...

ইউটিউব কি? ক্যারিয়ার হিসেবে ইউটিউব কেমন?

ইউটিউব কি?

ক্যারিয়ার হিসেবে ইউটিউব কেমন?

আর্টিকেল রাইটার : সুমাইয়া ইসলাম

এক কথায় বলতে গেলে ইউটিউব হচ্ছে একটি ভিডিও শেয়ারিং ওয়েবসাইট। ইউটিউব আজ বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বড় জনপ্রিয় একটি সাইট। এখানে ভিডিও আদান প্রদান করা হয়। ক্যালিফোর্নিয়ার তিন যুবক ২০০৫ সালে এই ভিডিও শেয়ারিং ওয়েবসাইট টি তৈরি করেন। গুগল ২০০৬ সালে এই সাইটটি ১.৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে কিনেছে। 

গুগল সার্চ ইঞ্জিনের মতো ইউটিউব ও একটি সার্চ ইঞ্জিন।গুগলের যেমন সার্চ বক্স রয়েছে যেকোনো বিষয়ে জানতে হলে সার্চ করলে প্রয়োজনীয় তথ্য সার্চ রেজাল্ট এর মাধ্যমে জানতে পারি তেমনি ইউটিউব একটি সার্চ ইঞ্জিন যেখানে কোন বিষয়ে সার্চ করলে নির্ধারিত বিষয় সম্পর্কিত ভিডিও গুলো সরবরাহ করে । এখানে যে কেউ ইউটিউব চ্যানেল খুলে নিজে ভিডিও বানিয়ে আপলোড করে লোক সমাজে শেয়ার করতে পারেন। 

ইউটিউব ব্যবহারকারী পাবলিকের আপলোড করা যেকোন ভিডিও যেকোনো সময় ইউটিউবে দেখতে পারবেন। এখানে কেউ দেখতে আসে আবার কেউ শেখাতে আসেন। এই ওয়েবসাইট হচ্ছে অনলাইনে নিজেকে বিখ্যাত করার সহজ মাধ্যম।প্রতিদিন বিভিন্ন বিষয়ে হাজার হাজার ভিডিও আপলোড করা হয়, যেগুলো কিনা আমাদের মত সাধারণ মানুষ আপলোড করে। 

আবার কেউ চাইলে আপলোড করা ভিডিও কমেন্টের মাধ্যমে আপনার মন্তব্য প্রকাশ করতে পারেন। ইউটিউব একটি সুরক্ষিত প্লাটফর্ম যেখানে কিছু নির্ধারিত ভিডিও র জন্য বয়স সীমাবদ্ধ রয়েছে , আঠারো বছর বয়স নিশ্চিত করে নির্ধারিত ভিডিও দেখার অনুমোদন রয়েছে।

ইউটিউব এমন একটি প্লাটফর্ম যেখানে ভিডিও দেখা ,প্রদান করা ,লাইক, কমেন্ট, শেয়ার, রিপোর্ট ,সাবস্ক্রাইব, প্লেলিস্টে যুক্তি করণ সুবিধা দিয়ে থাকে।

এখানে বিভিন্ন ধরনের ভিডিও পাওয়া যায় যেমন নাটক, চলচ্চিত্র, মুভি ক্লিপ,‌ সঙ্গীত, লাইভ, ভিডিও ব্লগিং, স্ট্রিমিং, অডিও রেকর্ডিং স্বল্পদৈর্ঘ্য ক্লিপ শিক্ষামূলক ভিডিওর মতো ইত্যাদি তথ্য রয়েছে। ইউটিউব আমাদের আরও কিছু সুবিধা দিয়ে থাকে যেমন ভিডিও এডিটিং, সাবটাইটেল মুক্তিকরন, টেলিভিশন এর বিকল্প প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইউটিউব চ্যানেল, ভিডিও শেয়ারিং এর প্রাইভেসি নিয়ন্ত্রণ, ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিও গুলো তে ১০,০০০ এর বেশি ভিউয়ার হলে ভিডিও মনিটাইজ করা যায় এর ফলে আপনার রোজগার ব্যবস্থা হয়ে যাবে, তাছাড়া রয়েছে 100k সাবস্ক্রাইব হলে সিলভার প্লে বাটন, আরো আছে গোল্ডেন প্লে বাটন, ডায়মন্ড ও রুবি প্লে বাটন।

 

ইউটিউব থেকে কত টাকা ইনকাম করা যায়?

 

বর্তমান বিশ্বে ব্যবসাক্ষেত্রে ইউটিউব হচ্ছে প্রধান আয়ের মাধ্যম হিসেবে বলা যায়, রাখছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান এর মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি কোটি মানুষ হাজার হাজার টাকা ইনকাম করছে।

 

আপনার ইউটিউব ভিডিওর উপর নির্ভর করে আপনি কত টাকা রোজগার করবেন ভিডিও কনটেন্ট, ভিউ, দর্শকের বয়স, অবস্থান ইত্যাদি। একজন ইউটিউবারের সিপিএম রেট ভিউজ এর উপর উঠানামা করে। ইউটিউব এ সিপিএম, সিপিসি বা কস্ট পার ক্লিক এর উপর ভিত্তিতে টাকা রোজগার করা সম্ভব।

তবে ইউটিউব চ্যানেলে শুধু ভিডিও বানালে চলবে না। ভিডিও হতে হবে মুক্তি সমর্থন, উপস্থাপনা ভালো না হলে মানুষ দেখবে না, বর্তমানে বিভিন্ন মোবাইল ফোনের ভালো ক্যামেরা আছে তা দিয়ে ভিডিও করা যায়। যত বেশি দর্শক তত বেশি উপার্জন।

এবার কাজের কথায় আসা যাক। বিজ্ঞাপন হচ্ছে আয়ের প্রধান উৎস। আপনি যখন আপনার ইউটিউব চ্যানেলে বিজ্ঞাপন দাতাদের কাছে দেবেন এবং পরিবর্তে তারা আপনাকে টাকা দিবেন।বিজ্ঞাপনদাতারা আপনার ইউটিউব ভিডিওর শুরুতে বা মাঝে তাদের বিজ্ঞাপন দেখুন আর আপনি সেই ইউটিউব বিজ্ঞাপন থেকে রোজগার করতে পারবেন। ইউটিউব চ্যানেলের আয় শুধু সাবস্ক্রাইবারের ওপর নির্ভর করে না তারা যদি ভিডিওগুলো নিয়মিত না দেখেন অর্থাৎ আয় নির্ভর করে বিজ্ঞাপনের ওপর চ্যানেলের ভিউ যত বাড়বে যত বিজ্ঞাপন পাবে ততোই আয় হবে। শুধু চ্যানেল খুলে ভিডিও আপলোড করলে রোজগার হবে না সেক্ষেত্রে আপনার চ্যানেল টি ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রাম নথিভুক্ত করতে হবে। এরপর ই ইউটিউব আপনাকে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন দেবে আর আপনি আয় করবেন। ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রাম যুক্ত হতে হলে নিম্নের কিছু নিয়মাবলী অনুসরণ করতে হবে-

  • আপনার একটি গুগল এডসেন্স একাউন্ট সংযুক্ত থাকতে হবে
  • ১০০০  সাবস্ক্রাইবার থাকতে হবে
  • গত এক বছরে ৪০০০ পাবলিক ওয়াচ আওয়ার ভিডিও থাকতে হবে।

এরপর ইউটিউব সেটিং এর নোটিফিকেশন আপনার উপরের ফর্মালিটিস পূরণ হলে নোটিফিকেশন আসবে পার্টনার প্রোগ্রাম যুক্ত হওয়ার জন্য।

 

এখন মূল কথায় আসা যাক। কত টাকা আয় করা যায়? প্রতি ১০০০ ভিউতে ১ থেকে ৩ ডলার পর্যন্ত কমানো সম্ভব। কিন্তু ইউটিউব কখনো ভিউ এর উপর নির্ভর করে টাকা দেয় না ।আপনি কম ভিডিও বেশি টাকা আয় করতে পারেন। ছোট্ট একটি উদাহরণ দেই আমার দুই বন্ধু একি সাথে ইউটিউব চ্যানেল খুলে ছিল একজন ১ লক্ষ ভিউ হওয়ায় ১৫০ ডলার আয় করেছে অন্যজন ১.৫ লক্ষ ভিউ তে ১০০ ডলার আয় করেছিল। আপনারাই বিচার করুন যে কত ভিউতে কত টাকা আয় হয়। এটার কোনো স্থায়ী নির্ধারিত সংখ্যা নেই। কেউ ১০০০ ভিউতে ১ ডলার করে পায় কেউবা ১০০০ ভিউতে ১.৫  ডলার করে পায় তাই বলা যায় ইউটিউবে কত টাকা আয় করা যায় তার কোন সঠিক ফিক্সড পদ্ধতি নেই। আপনি যত ভাল কনটেন্ট বানাবেন তত জলদি ভিউ বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু সব কাজের জন্য অধ্যাবসায় প্রয়োজন তাই অনেক সময় নিয়ে আস্তে আস্তে ভিডিও বানানো ভালো কেননা এক দুই মাসেই কেউ টাকা আয় করতে পারে না বিশেষ করে এই ক্ষেত্রে অনেকটা পরিশ্রম করার দরকার।

এছাড়া আরো কিছু উপায়ে রোজগার করা সম্ভব যেমন পণ্য বিক্রি, ইউটিউব প্রিমিয়াম, চ্যানেল মেম্বারশিপ, সুপার চ্যাট,  ইত্যাদি বিভিন্ন ভাবে ইউটিউব থেকে টাকা রোজগার করা সম্ভব।

 

ক্যারিয়ার হিসেবে ইউটিউব কেমন?

 

শুরুতেই বলতে চাই ইউটিউব কে ক্যারিয়ার হিসেবে নেওয়ার দায়িত্ব সম্পূর্ণ আপনার অর্থাৎ নির্ভর করছে আপনার কাজের দক্ষতার উপর। সারা বিশ্বে অনেক অনেক ইউটিউবার আছে যারা মাসে কোটি কোটি টাকা আয় করছে। আবার বেশি দূরে না যাই আমাদের বাংলাদেশে এমন কিছু ইউটিউবার আছে যারা লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করছেন। আপনি যদি পরিশ্রম করেন তাহলে ইউটিউব কে ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে পারেন লাইফ টাইম এর জন্য।

 

অনেকেই বলে থাকেন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী ইউটিউব কে ফুল-টাইম ক্যারিয়ার হিসেবে না নিয়ে পার্টটাইম ক্যারিয়ার বানানো উচিত। তবে আমি বলব কষ্ট করলে কেষ্ট মেলে আপনি যদি ভালো মানের ভিডিও বানান যা তারা চাইছে তাদের জানার তৃষ্ণা মেটাতে পারে। তাহলে কেন সাকসেস হবেন না। ঠিকমতো পরিশ্রম করতে পারলে অবশ্যই সফলতা আসবেই শুধু কিছু ছোট্ট মেজর টিপস ফলো করতে হয় আপনার ভিডিও কনটেন্ট, ভিডিও কোয়ালিটি এবং উপস্থাপনা। সবশেষে বলব ইউটিউব কে ক্যারিয়ার হিসেবে নেওয়া সম্পূর্ণ আপনার ওপরই নির্ভর করছে আপনি কতটা পরিশ্রম দিবেন ঠিক ততটাই ব্যাক পাবেন। কিন্তু হার মানলে চলবে না। সবকিছুর একটা সময় লাগে কেউ অল্পতেই সফল হয় কেউ হয়না তাই বলে কখনো থেমে যেতে নেই।

 

আমাদের লেখা গুলো যদি আপনার ভাল লেগে থাকে তাহলে, আপনাদের বন্ধু- বান্ধবীদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না ।

Latest Posts

ই-কমার্স মার্কেটপ্লেসঃ সিংগেল ভেন্ডর ও মাল্টি ভেন্ডর ওয়েবসাইটের পার্থক্য

ই-কমার্স মার্কেটপ্লেসঃ সিংগেল ভেন্ডর ও মাল্টি ভেন্ডর ওয়েবসাইটের পার্থক্যঃ লেখকঃ নাজিম উদ্দিন শেখ  আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির যুগে মানুষের জীবনকে অনেক সহজ করে তুলেছে। ইন্টারনেটের অবদানে পৃথিবী...

ইভ্যালি : জন্ম, উত্থান ও বিজনেস মডেল পর্যালোচনা !

ইভ্যালি : জন্ম, উত্থান ও বিজনেস মডেল পর্যালোচনা  লেখকঃ নাজিম উদ্দিন শেখ  'ইভ্যালি' – বাংলাদেশের সবচেয়ে আলোচিত ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম। ২০১৯ সালে বাংলাদেশের ই কমার্স গুলোর শেয়ার...

ঘরে বসে বাংলাদেশ থেকে ইন্টারন্যাশনাল মাস্টার কার্ড পাওয়ার উপায় ও করণীয়

ঘরে বসে বাংলাদেশ থেকে ইন্টারন্যাশনাল মাস্টার কার্ড পাওয়ার উপায় ও করণীয় লেখকঃ নাজিম উদ্দিন শেখ  মাস্টার কার্ড ও ভিসা কার্ড হয়তো আমরা সবাই চিনি। ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটপ্লেসে...

শিশুদের জন্য সেরা ১০ টি অ্যাপ।

শিশুদের জন্য সেরা ১০ টি অ্যাপ। আধুনিক যুগ তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর যুগ। এই আধুনিক যুগে প্রযুক্তি যেন আমাদের আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছে প্রতিটি ক্ষেত্রে । তাই বর্তমান...

Don't Miss

Stay in touch

To be updated with all the latest news, offers and special announcements.